আজঃ শুক্রবার, ২৯শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ শ্রীনগরে মাদ্রাসা সুপারের বিরুদ্ধে শিক্ষককে মারধরের অভিযোগ - বিক্রমপুর প্রতিদিন

শিরোনাম

প্রতিবাদে পাঠদান বর্জন

শ্রীনগরে মাদ্রাসা সুপারের বিরুদ্ধে শিক্ষককে মারধরের অভিযোগ


নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশের সময় : এপ্রিল ৩০, ২০২৬, ৯:৩৯ অপরাহ্ণ
শ্রীনগরে মাদ্রাসা সুপারের বিরুদ্ধে শিক্ষককে মারধরের অভিযোগ

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে হোগলাগাঁও হাজী রিয়াজুল ইসলাম দারুচ্ছুন্নাত দাখিল মাদ্রাসার সুপারের বিরুদ্ধে এক সহকারী শিক্ষককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে ক্লাশ চলাকালীন সময় এঘটনা ঘটে। এতে মাদ্রাসার সুপার মো. আবুল বাশার তালুকদারকে বরখাস্তের দাবী করেছেন সহকারী শিক্ষকরা।

সরজমিনে জানা গেছে, মাদ্রাসা সুপার আবুল বাশার তালুকদার দীর্ঘদিন ধরে মাদ্রাসার দায়িত্ব পালনে অবহেলা, অনিয়ম ও বিভিন্ন দুর্নীতির সাথে জড়িত। বৃহস্পতিবার মাদ্রাসার মিটিংয়ের নোটিশ খাতায় স্বাক্ষরের জন্য সহকারী শিক্ষক নাজিম খান সুপার আবুল বাশার তালুকদারের কাছে যান।এসময় আবুল বাশার স্বাক্ষর দিবেন না বলে অস্কীকৃতি জানালে দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়।এক পর্যায় সুপার আবুল বাশার তালুকদার শিক্ষক নাজিম খানকে কিল ঘুষি ও হাতে কামড় দেন।এ ঘটনায় সুপার আবুল বাশারকে অপসারণের দাবীতে সব শিক্ষক মাদ্রাসায় পাঠদান বর্জন করেন।

অপরদিকে শিক্ষার্থীরাও অভিযুক্ত সুপারের অনিয়ম ও অসালীন আচরণের প্রতিবাদে ক্লাশ বর্জন করেন।মাদ্রাসার ছাত্রীরা বলেন, সুপার আবুল বাশার ভালো আচরণ করেন না।

ভুক্তভোগী শিক্ষক মো. নাজিম খান বলেন, নোটিশ খাতায় স্বাক্ষরের জন্য তাকে বেশ কিছুদিন ধরে বলা হচ্ছে।কিন্তু বিভিন্ন অজুহাতে মাদ্রাসা কমিটির মিটিংয়ের নোটিশ খাতায় স্বাক্ষর করছেন না তিনি।এদিন স্বাক্ষর দিতে বললে তিনি আমার ওপর আক্রমণ করেন।

মাদ্রাসার শিক্ষক প্রতিনিধি শাহীন আলম, আলী হোসেনসহ উপস্থিত অন্যান্য শিক্ষকরা বলেন, আবুল বাশার তালুকদার দীর্ঘদিন যাবৎ মাদ্রাসার আর্থিক অনিয়ম, শিক্ষক, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের সাথে অসদাচরণ করে আসছেন।আজ নোটিশ খাতায় স্বাক্ষর চাইতে গেলে শিক্ষক নাজিম খানকে মারধর করেন আবুল বাশার তালুকদার।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মাদ্রাসার মোট ১১ জন শিক্ষক সুপার আবুল বাশার তালুকদারকে বরখাস্তের দাবীতে মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির কাছে লিখিত আবেদন করেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাদ্রাসার সুপারিন্টেন্ডেন্ট আবুল বাশার তালুকদার দাবী করেন সহকারী শিক্ষককে মারধর করার অভিযোগ সঠিক নয়।তিনি দাবী করেন, মাদ্রসার সাধারণ তহবিলের অর্থের জন্য আমার ওপর ক্ষিপ্ত।আনিত অভিযোগ মিথ্যা।

এ ব্যাপারে মাদ্রাসার সভাপতি আব্দুর রহিম মোল্লা জানান, মাদ্রাসার সুপারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও শিক্ষকদের সাথে খারাপ আচরণ করার অভিযোগ রয়েছে।তিনি আমাকে মাদ্রাসার বিষয়ে কিছু জানান না।শিক্ষককে হেনস্থার বিষয়টি সহকারী অন্যান্য শিক্ষকরা জানিয়েছেন।প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।