মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে পরকীয়া প্রেমের টানে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা নিয়ে এক গৃহবধূর বিরুদ্ধে পালিয়ে যাওয়ার অভিয়োগ উঠেছে।উপজেলার কুকুটিয়া ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের রানা গ্রামের মো. ফলজ শেখের ছেলে মালয়েশিয়া প্রবাসী মো. সেলিমের স্ত্রী ফাহিমা আক্তারের (২৬) বিরুদ্ধে এই অভিযোগ উঠে। এক পুত্র সন্তানের জননী ফাহিমা একই জেলার পার্শ্ববর্তী লৌহজং উপজেলার বড় বেজগাঁও গ্রামের মো. ফরহাদ খানের মেয়ে। ভুক্তভোগী স্বামী মো. সেলিম (৪০) শ্রীনগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ জুলাই ২০২৬ তারিখ সকালের দিকে প্রতিদিনের মত ফাহিমা তার ৮ বছরের ছেলে ফারহানকে নিয়ে পার্শ্ববর্তী ঝাপুটিয়া মাদ্রাসায় যায়। দুপুর হয়ে গেলেও ফাহিমা বাড়িতে ফিরে না আসায় স্বামী সেলিম মোবাইল ফোনে কল করে স্ত্রীর ফাহিমার ফোন নম্বর বন্ধ পায়। সেলিম মাদ্রাসায় গিয়ে জানতে পারেন ছেলের পরীক্ষা শেষে ফাহিমা মাদ্রাসা থেকে চলে গেছেন। পরে আত্মীয়-স্বজনসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজ নিয়েও স্ত্রী-পুত্রের কোন সন্ধান পাননি সেলিম। ভুক্তভোগী সেলিম শেখ বলেন, সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজ নিয়েছি তাদের পাইনি। উপায় না পেয়ে পরে থানায় অভিযোগ করি। তবে একদিন হঠাৎ ফোন করে ফোহিমা জানায় বেশী বারাবারি করলে মামলা দিবে।
তিনি আরো বলেন, এর আগে প্রতিবেশী নুর আমিনের সম্পর্কে আত্মীয় এক যুবকের সাথে ফাহিমার পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে উঠে। এনিয়ে পারিবারিক কলহের সৃষ্টি হলে প্রায় দেড়মাস আগে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ বিষয়টি সমাধানের জন্য শালিসে বসেন। স্থানীয় ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম শেখ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, প্রায় ৩ মাস আগে সেলিম মালয়েশিয়া থেকে দেশে এসে স্ত্রীর পরকীয়ার বিষয়টি জানতে পারে। পরে স্থানীয়ভাবে বসে মিমাংসাও করা হয়। তখন বুঝানো হলে আর পরকীয়া সম্পর্কে জড়াবে না বলে আমাদের কাছে ওয়াদা করেছিল ফাহিমা। কয়েকদিন আগে কাউকে কিছু না বলে স্বামীর বাড়ি থেকে চলে যায়। সে পরকীয়ার টানে যেয়ে থাকতে পারে।
অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা ও শ্রীনগর থানার সাব-ইন্সপেক্টর মো. রিপন আহমেদ জানান, ধারনা করা হচ্ছে পারিবারিক কলহের জেরে ফাহিমা তার সন্তান নিয়ে কোথাও আত্মগোপন করেছে।জানতে পেরেছি গৃহবধূ ফাহিমা তার স্বামীর পরিবারের লোকজনদের কাছে একদিন ফোন করে সংসার করবে না বলে জানিয়েছে।এখন তার ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।খোজার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।