আজঃ , , নারীদের পড়াশোনা ও চাকুরির ব্যাপারে ইসলাম কী বলে? পর্যবেক্ষণ ও মতামত - বিক্রমপুর প্রতিদিন

শিরোনাম

নারীদের পড়াশোনা ও চাকুরির ব্যাপারে ইসলাম কী বলে? পর্যবেক্ষণ ও মতামত


আল-আমিন হুসাইন প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৩, ৮:৫৩ অপরাহ্ণ
নারীদের পড়াশোনা ও চাকুরির ব্যাপারে ইসলাম কী বলে? পর্যবেক্ষণ ও মতামত

ক’দিন যাবত একজন বাংলাদেশের উদীয়মান ক্রিকেটার তানজিম হাসান সাকিবের ফেসবুক পোস্ট নিয়ে অনেক বাড়াবাড়ি লক্ষ্য করলাম।দুটি পক্ষ সোশ্যাল মিডিয়ায় খুব একটিভ এ বিষয় নিয়ে।আমার উদ্দেশ্য দুটি পক্ষ নয়, বরং ইসলামের নির্দেশনা কী এ বিষয়ে? 

১]- আল্লাহ পবিত্র কুরআনের প্রথম যে আয়াতটি নাযিল করেন, তা হলো: “ইকরা বিসমি রব্বিকাল্লাজি খলাক” অর্থাৎ পড়ুন আপনার প্রভূর নামে, যিনি আপনাকে সৃষ্টি করেছেন। এই আয়াত শুরুই হয়েছে ইকরা শব্দ দিয়ে, যার অর্থ পড়া। এই ধরনের সম্বোধনবাচক শব্দগুলো নারী পুরুষ উভয়কেই নির্দেশ করে। সে হিসেবে পড়াশোনার তাকিদ সবার জন্যই সমান। জ্ঞান আহরণ করাও সওয়াবের কাজ। নারীদের উচ্চশিক্ষা গ্রহণে কোনো বাধা ইসলামে নেই। মহানবী (স:) এর সাহাবিদের মধ্যে অন্যতম জ্ঞানী ও শিক্ষিত মহিলা ছিলেন হযরত আয়েশা (রা:)। মহানবী (স:) বহু বিষয় তাকে শিক্ষাদান করেছিলেন। এতেই প্রতীয়মান, নারী শিক্ষার ব্যাপারে ইসলাম কতটা উদার।

২]- পবিত্র কোরআন ও হাদীসের কোথাও নারীদের চাকুরি করার ব্যাপারে কোনো বিধিনিষেধ কেউ দেখাতে পারবে না। বরং প্রাচীনকাল থেকেই নারীরা পুরুষের সাথে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত। মহানবী (স:) এর প্রথম স্ত্রী হযরত খাদিজা (রা:) ছিলেন তৎকালীন আরবের সবচেয়ে ধনী মহিলা এবং ব্যবসায়ী। তিনি চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ ও অংশীদারত্বের ভিত্তিতে ব্যবসা পরিচালনা করতেন। মহানবী (স:) অংশীদারত্বের ভিত্তিতে তার সাথে ব্যবসা করেছেন। এছাড়া নারীরা বিভিন্ন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলো। মহানবী (স:) কখনোই এ ব্যাপারে নিষেধ করেন নি। বরং পর্দা ঠিক রেখে যে কোনো কাজেই বৈধতা ছিলো। চাকুরি করলে স্ত্রী ইসলামে থাকে না, এসব কথার কোনো ভিত্তি নাই।

৩]- তানজিম সাকিব যে বিষয়টি উপস্থাপন করেছেন, তা কেবলই আমাদের দেশের সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি। এটাকে ধর্মের সাথে মেলানো মোটেও ঠিক নয়। আমাদের সমাজে চাকুরি করা মেয়েদেরকে যে চোখে দেখা হয়, সেটাই তার শায়েখ বলার চেষ্টা করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে বহু মেয়েকে দেখেছি, তাদের পর্দা সহকারে পড়াশোনার সংগ্রাম করতে। নিজেদের ইজ্জতকে হেফাজত রাখতে তাদের জুড়ি মেলা ভার। তাই ঢালাওভাবে ওভাবে বলা যায় না।

৪]- তানজিম যেসব শায়েখকে অনুসরণ করেন, তারা সালাফি মতাদর্শে উদ্বুদ্ধ। তারা নিজেদের মত করে ইসলামকে ভাবেন ও বলে থাকেন। তারা বাংলাদেশের মূল ধারার সাথে নেই। ইসলামের অনেক বিষয়েই তাদের বক্তব্য বিতর্কিত। আমার প্রত্যাশা থাকবে, তানজিম সালাফি মতাদর্শ থেকে ফিরে আসবে।

৫]- যেসব প্রগতিশীল ও এথিজমে বিশ্বাসী ব্যক্তি ও মিডিয়া তানজিমকে নিয়ে বাড়াবাড়ি করেছে, তারা এককথায় নির্লজ্জ। তাদেরকে আরো সহিষ্ণু হতে হবে। কোনো ইস্যু পেলেই এভাবে হামলে পড়া কখনোই প্রগতিশীলতা হতে পারে না। এটা সংকীর্ণতা। একজন খেলোয়াড়কে তার খেলার পারফরম্যান্স দিয়ে বিচার করবেন, তার ব্যক্তিজীবন ও মতাদর্শ দিয়ে নয়।