মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে অগ্রণী ব্যাংকের আমানত লোপাটের ঘটনায় এবার দুদকের জালে ধরা পরেছে শাখাটির সাবেক দুই ম্যানেজারসহ ৫ জন।গতকাল বুধবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে ব্যাংকের ভেতর থেকে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।
শ্রীনগর থানা পুলিশ জানায়, ব্যাংকের টাকা লোপাটের ঘটনায় দুদকের একটি টিম অগ্রণী ব্যাংক শ্রীনগর শাখায় দিনভর তদন্ত চালায়।পরে বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে ৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন অগ্রণী ব্যাংক শ্রীনগর শাখার সদ্য বিদায়ী ম্যানেজার শরীফউদ্দিন (৩৯), রেজাউল হক (৪২), সাবেক ক্যাশ অফিসার জিন্নাহ হোসেন (৩৪), বেসরকারি সিকিউরিটি গার্ড রঞ্জু আহমেদ (৩০) ও গার্ড আব্দুল হাই (৪২)।
এর আগে শ্রীনগর থানা পুলিশ ও মুন্সীগঞ্জ ডিবি পুলিশ গত ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে ঢাকার মিরপুর এলাকা থেকে অগ্রণী ব্যাংক শাখাটির অর্থ লোপাটের মূলহোতা পলাতক ক্যাশ অফিসার শরিফুজ্জামান সোহাগকে গ্রেফতার করে।
গত ২২ সেপ্টেম্বর অগ্রণী ব্যাংক শ্রীনগর শাখায় গ্রাহকের আমানত লোপাটের বিষয়টি ধরা পরে।এর দুদিন আগে থেকেই ক্যাশ অফিসার শরিফুজ্জামান সোহাগ পালিয়ে যায়।শাখাটিতে এপর্যন্ত ২৩০ জন গ্রাহকের আমানত লোপাটের খবর পাওয়া গেছে।
জানা গেছে, অত্মসাতকৃত টাকার পরিমাণ ১৫ কোটি টাকার উপরে।ব্যাংকটিতে গ্রহক সংখ্যা ১০ হাজারের উপরে।এখনো সব একাউন্ট চেক করা সম্ভব হয়নি বলে জানা গেছে।গ্রাহকদের লোপাট হওয়া টাকার পরিমাণ নির্ধারণে অগ্রণী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় থেকে ৩ সদস্যের একটি অডিট টিম গঠন করা হয়েছে।বর্তমানে ওই টিমের অডিট কার্যক্রম চলমান রয়েছে।প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগটি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তফসিলভুক্ত অপরাধ হওয়ায় দুদক বিষয়টি তদন্ত করছে।প্রতিদিনই ক্ষতিগ্রস্থ গ্রাহকরা ব্যাংকটির সামনে তাদের অর্থ ফেরত পাওয়ার দাবিতে সভা সমাবেশ ও মানববন্ধনের মতো কর্মসূচি করে যাচ্ছেন। এঘটনায় ‘ভুক্তভোগী গ্রাহক ঐক্য পরিষদ’ নামে অগ্রণী ব্যাংক শ্রীনগর শাখার ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকরা একটি আহবায়ক কমিটি গঠন করেছে।
সংশ্লিষ্ট পরিষদের পক্ষ থেকে বিপুল পরিমান আমানত লোপাটের ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা এবং ভুক্তভোগীদের অর্থ উদ্ধারের দাবিতে বিভিন্ন দপ্তরে স্মারকলিপি দেয়।