ছবি : যুবদল নেতা রাজু আহমেদ।
জেল-জুলুম, অত্যাচার-নির্যাতন কিছুই বাদ যায়নি তার জীবন থেকে।মাসের পর মাস ঘরবাড়ি ছেড়ে স্ত্রী সন্তান এবং স্বজনদের সান্নিধ্যবিহীন অমানবিক জীবন যাপনেও বাধ্য হয়েছেন তিনি।তার যেমনি আছে দফায় দফায় কারাবাসে দিনের পর দিন অন্ধকার প্রকোষ্ঠে থাকার অনাকাঙ্ক্ষিত অভিজ্ঞতা, তেমনি রয়েছে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের রক্ত চক্ষু উপেক্ষা করে রাজনৈতিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণের দৃষ্টান্ত।বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ১৭ বছরের সকল ধরনের নিগ্রহ সহ্য করা তিনি হচ্ছেন শ্রীনগর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির ১নম্বর সদস্য মোহাম্মদ রাজু আহমেদ।
২০০৬ সালে বিএনপির ক্ষমতা থেকে নেমে গেলে মসনদে আরোহন করে ১/১১ সরকার।২০০৮ সাল পর্যন্ত তারা ক্ষমতা দখল করে রাখে।পরবর্তীতে ২০০৯ সালে তাদের অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয় আওয়ামী লীগ।মূলত ১/১১ সরকারের আমল থেকেই বিএনপি এবং অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের উপর নানারকম চাপ ছিল।সম ধারাবাহিকতা বলবৎ থাকে আওয়ামী লীগ সরকারের টানা তিন মেয়াদের শাসনামলে।তবে বিগত ১৭ বছরে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের মূল নেতৃত্ব বলয়ে কারাবাস, হামলা, মামলার শিকার হতে হয়েছে প্রায় সকলকেই।এ সংক্রান্তে একটি নির্মম ঘটনা উল্লেখ করে জেলা যুবদলের নেতা রাজু আহমেদ বলেন, পালিয়ে থাকা অবস্থায় ২০২২ সালে পবিত্র ঈদ উল ফিতরকে কেন্দ্র করে মা, বাবা, স্ত্রী ও সন্তানদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে বাড়িতে আসেন।ঈদের আগের দিন একমাত্র শিশু পুত্রকে হাতে নিয়ে স্থানীয় চকবাজারে কিছু কেনাকাটা করার জন্য সেখানে যান।মুহূর্তের মধ্যেই চারদিক থেকে শ্রীনগর থানা পুলিশ ঘেরাও করে ফেলে।ঈদের কথা বলে তাদের বোঝানোর চেষ্টা করলেও তা বিফলে যায়।শিশু পুত্রকে রেখে পুলিশ গ্রেফতার করে নিয়ে যায় তাকে।পিতাকে এভাবে ধরে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখে শিশুপুত্রের গগনবিদারি আর্তনাদ আজও তাকে তাড়িত করে।
রাজু আহমেদ বলেন, তিনি কখনই কোন সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না।বিগত ১৭ বছরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে ওতপ্রতভাবে জড়িত এবং সক্রিয় ছিলেন সেটাই তার অপরাধ।তিনি দুঃখ ও পরিতাপের সঙ্গে বলেন তিলে তিলে গড়ে তুলেছিলেন একটি রেন্ট এ কারের ব্যবসা।কিন্তু দফায় দফায় পুলিশি মামলা হামলা এবং নির্যাতনে সেই ব্যবসাও লাটে ওঠে।বিগত ২০০০ সাল থেকে বিএনপি’র রাজনীতির সঙ্গে জড়িত উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, বিগত ১৭ বছর অনেক অত্যাচার নির্যাতন ভুলে গেলেও দুটি ঘটনা কখনো ভোলার নয়।
তারমধ্যে শ্রীনগর থানা পুলিশ একবার রিমান্ডে নিয়ে যেভাবে বেদরক এলোপাথাড়ি মারধর করেছিলেন, যার কারণে তার একটি চোখ নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছিল।দ্বিতীয় ঘটনা ২০১৬ সালে বিএনপির কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে স্থানীয় মাওয়ায় হরতাল চলাকালে পিকেটিং করার সময় পুলিশ এবং আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হামলার শিকার হন। এক পর্যায়ে পুলিশের বিক্ষিপ্ত গুলিতে বিএনপি এবং অঙ্গ সংগঠনের প্রায় ১০০ নেতাকর্মী আহত হন।সেই গোলাগুলির মুখাপেক্ষী হয়েও অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন বিগত ১৭ বছরে তার বিরুদ্ধে ১৪/১৫ টি মামলা হয়।এই মামলার প্রেক্ষিতে ৩ দফায় তাকে প্রায় দশ মাস কারাভোগ করতে হয়।তবে তিনি প্রতিহিংসার রাজনীতি বিলুপ্তি চান।
লেখা : সালেহীন তুহিন।